নোয়াখালী প্রতিনিধি:- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও কথিত কবিরাজি চিকিৎসার কার্যক্রম চলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের আব্দুল মালেক ওরফে মানিক খোনারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগ সারিয়ে দেওয়ার কথা বলে পানিপড়া, তাবিজ-কবজ ও কথিত চিকিৎসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কথিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ তার কাছে আসেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মানিক খোনারের চিকিৎসাবিদ্যায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সনদ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার কথিত চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মানিক খোনারের কথিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। রিট পিটিশন নম্বর ২৩৫৪/১৭ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তৎকালীন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ফয়সল তার কার্যক্রম বন্ধে উদ্যোগ নেন এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে সংবাদে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার আস্তানায় অভিযান, জরিমানা ও মুচলেকা নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টিনা পাল অভিযান চালিয়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা নেন বলে তৎকালীন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের নির্দেশে হাটগাঁও এলাকায় মানিক খোনারের কথিত চিকিৎসাকেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান এ অভিযান পরিচালনা করেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে ওই আস্তানা খোলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহানের বক্তব্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। ইউএনও জানান, মানিক খোনারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তাকে একাধিকবার মুচলেকা দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
এদিকে, মানিক খোনারের কথিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম চালু হয়েছে।
মানিক খোনারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।


